তুলনামূলক কমমূল্যের পণ্য প্রাপ্তির এআই টুলস গেইম চেঞ্জার হতে পারে : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
দেশের কোন জায়গায় তুলনামূলক কম মূল্যে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, এধরনের তথ্য প্রাপ্তির একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে প্রযুক্তিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। একইসঙ্গে কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করে এ খাতের তথ্যপ্রযুক্তি তৈরি ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে তরুণদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. শামসুল আরেফিন।
বৃহস্পতিবার মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এমন আহ্বান জানান।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি মালিক তালহা ইসমাইল বারী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইসকন্টাকের জ্যেষ্ঠ ম্যানেজার মোহাম্মদ সাকিব খালেদ এবং আইফার্মার লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহাদ ইফাজ। উপস্থাপনায় কৃষিতে বিদ্যমান সমস্যা (অপর্যাপ্ত ডাটাবেজ, লজিস্টিক ব্যবস্থা,উৎপাদন ব্যয়, ফসল আহরণের খরচ, প্রতিকূল জলবায়ু মোকাবেলা ইত্যাদি) ও পরামর্শ ভিত্তিক পৃথক উপস্থাপনা করেন তারা।
ফাহাদ ইফাজ বলেন,সামনের দিনগুলোতে এআই এবং ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি কৃষকদের সহযোগী হয়ে উঠবে। ড্রোন, রিমোটকন্ট্রোলিং সেন্সর, স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে এআই, মেশিংলার্নিং এর মতো নানা প্লাটফর্ম ব্যবহার করে উৎপাদক, সরবরাহকারী, বিক্রেতা এবং ভোক্তার মধ্যে একটি ভ্যালু চেইন গড়ে তুলবে। কৃষকরা এআই এর মাধ্যমে কখন কি উৎপাদন করবে, কিভাবে সেগুলো পরিচর্যা করতে হবে এমনকি ফসল কাটার সময় এগুলো বাজারমূল্য কি হবে সে বিষয়েও জানতে পারবেন।
ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলী এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রযুক্তিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, দেশের কোন জায়গায় তুলনামূলক কম মূল্যে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, এধরনের তথ্য প্রাপ্তির একটি প্ল্যাটফর্ম প্রণয়ন জরুরি। কৃষকদের স্মার্টনেসকে আপনারা টেকনোলজি দিয়ে কিভাবে সার্প করবেন সে দিকটায় মনোনিবেশ করুন। প্রযুক্তি তৈরি করে ব্যবহারকারীর কাছে না গিয়ে ইউজারের প্রয়োজনীয় টেকনোলজিটা তাদের সরবরাহ করুন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে কৃষক দাম পায় না। আবার ভোক্তাকে অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে হয়। তার মানে মাঝখানে সমস্যা আছে। এই সাপ্লাই চেইন ভ্যালু চেইনটা আমাদেরকে সেট করতে হবে। এজন্য যারা আইটি নিয়ে কাজ করছেন, যারা এখান থেকে উত্তরা যেতে মোবাইলে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে সবচেয়ে সহজে উত্তরা যাওয়ার পথ দেখেন। তাই আমি মনে করি, এভাবেই একটা এআই টেকনোলজি আপনারাও বের করেন যে সবচেয়ে কম দামে কোথায় পেঁয়াজ পাওয়া যায় সেটা একটি সিস্টেমে নিয়ে আসতে পারেন তবে এটা একটা গেইম চেঞ্জার হতে পারে। আমারা যদি গুগলের ম্যাপ ধরে শর্টেস্ট রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে যেতে পারি তাহলে আমরা সস্তায় পণ্য প্রাপ্তির নিড বেইজ টেকনোলজি তৈরি করতে পারবো না কেন। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি যদি প্রযুক্তি তৈরি না করেন, তাহলে তাকে খাওয়ানো খুবই কঠিন। তাই কৃষকের কর্মপদ্ধতিতা তার প্রয়োজন মতো অটোমেট করতে হবে।
এসময় মন্ত্রী আরো বলেছেন কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী তথ্য কাঠামো প্রণয়নের কোন বিকল্প নেই। ভ্যালু চেইনসহ আমদানি, রপ্তানি উন্নয়নে সরকার ‘জাতীয় লজিস্টিক পলিসি ২০২৪’ -করেছে যা সকল উদ্যোক্তাদের জানতে হবে।
বিশেষ অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. শামসুল আরেফিন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আগামীর কৃষকদের হতে হবে আমাদের চেয়ে স্মার্ট। তারা কিন্তু এখনো স্মার্ট। কেননা তারা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে পারেন বৃষ্টি হবে কি না। এখন যদি প্রযুক্তিকে আমরা তাদের উপযোগী করতে পারি তারা আরো অনেক বেশি স্মার্ট হবে। তাই দেশের কৃষকদের ব্যবহার উপযোগী করে এ খাতের তথ্যপ্রযুক্তি তৈরি ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোভিড সময়ে তরুণ সমাজকে কৃষিখাতের প্রতি আগ্রহ দেখতে পেরেছি। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে কৃষিতে এসেছে, যেটা অনেক উৎসাহব্যঞ্জক বিষয়। এই খাতে আরো নতুন নতুন উদ্ভাবনের প্রয়োজন আছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকে সার্কুলার ইকোনোমিতে নিয়ে আসতে হবে। কৃষির বাই প্রোডাক্টকে রিইউজ করতে হবে। এই যেমন আজকে আমি জানলাম গাছ থেকে বিদ্যুত উৎপাদন হচ্ছে। গাছ জল শোষন করে এবং ট্রান্সপিরেশন নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পাতায় পৌঁছে দেয়। এই প্রক্রিয়ার সময় গাছের তরল তরলের মধ্যে থাকায় গতি পায় যা বিদ্যুত প্রবাহ তৈরি করে।







